সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে উত্তরের জেলা নীলফামারীতে নির্মিত হচ্ছে চীনের অনুদানে ১,০০০ শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল। ১০ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের নির্মাণকাজ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে ২০২৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চীনের অনুদানে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চীন সরকার দেবে ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ৭৩ কোটি টাকা। ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৯৪৫ কোটি, ভবন নির্মাণে ৮০২ কোটি এবং সোলার প্যানেল, সিসিটিভি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ২৪৮ কোটি টাকা।
গত ২৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রকল্পের আওতায় মূল হাসপাতাল ভবন ছাড়াও চিকিৎসকদের জন্য পৃথক আবাসিক ভবন, নার্স ডরমিটরি, কর্মচারীদের ভবন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, সার্ভিস ভবন, হেলিপ্যাড এবং আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা থাকবে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, নীলফামারী ও আশপাশের অঞ্চলে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, মাতৃ ও নবজাতক জটিলতা এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেশি। বর্তমানে এসব রোগের চিকিৎসায় রোগীদের ৫০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। পর্যাপ্ত খাসজমি, ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় নীলফামারীকেই হাসপাতাল স্থাপনের জন্য চূড়ান্ত করা হয়।
নীলফামারী শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে সৈয়দপুর সড়কের দারোয়ানী সুতাকল সংলগ্ন পরিত্যক্ত ২৫ একর জমিতে হাসপাতালটি নির্মিত হবে।
সমীক্ষা অনুযায়ী হাসপাতালটি চালু হলে দৈনিক ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার ৫০০ রোগী সেবা নিতে পারবেন। ইনডোরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হতে পারে ৮০০ থেকে ১,০০০ জন। এতে এক থেকে দেড় হাজার চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীর কর্মসংস্থান হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধি দল শিগগিরই নীলফামারী সফর করবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় টিম গঠন করা হয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।