মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদে ঝোঁক বাড়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩০ ডলার ৪৯ সেন্টে। একই সঙ্গে মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারসও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৪ হাজার ৭৪০ ডলার ৪০ সেন্টে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) ও প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং সুদহার নীতিতে অনিশ্চয়তা স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রূপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিদেশি ভিসা প্রক্রিয়ায় আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ পাঠানোর বিধান সহজীকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ফেরতযোগ্য সিকিউরিটি ডিপোজিট ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ এ সংক্রান্ত নতুন সার্কুলার জারি করে এই নির্দেশনা কার্যকর করা হয়। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, বিদেশি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী ভিসা বন্ড জমা দিতে হলে, অনুমোদিত ব্যাংকগুলো আবেদনকারীর পক্ষে আন্তর্জাতিক কার্ড, ভার্চুয়াল কার্ড কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের মাধ্যমে সেই অর্থ প্রেরণ করতে পারবে। এই অর্থ শুধুমাত্র ভিসা বন্ড বা সিকিউরিটি ডিপোজিট পরিশোধের উদ্দেশ্যেই ব্যবহারযোগ্য হবে। এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) ও রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব থেকেও এ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক গ্যারান্টি সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি হবে আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খল।
টানা দরপতনের ধারা ভেঙে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে পুনরায় মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রুপার দামও ভরিতে ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতি ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় এনে এই সমন্বয় করা হয়েছে এবং তা বুধবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পল কাপুর। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী দিনে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা অনেকাংশে নির্ভর করবে ঢাকা–ওয়াশিংটন সম্পর্কের ওপর। সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৬-এ অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ২৫ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্র সফর করলে তাদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পল কাপুর বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অশুল্ক বাধা হ্রাস পেয়েছে। তিনি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত এ সামিটে শতাধিক দেশের হাজার হাজার প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন, যেখানে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণই মূল আলোচ্য বিষয়।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণমূল্যে নতুন করে ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে, সর্বশেষ সমন্বয়ের পর আজ থেকে কার্যকর হয়েছে সংশোধিত দর। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একই দিন সন্ধ্যা ৭টা হতে কার্যকর হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি (বিশুদ্ধ) স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। নতুন নির্ধারিত দর অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। উল্লেখ্য, একই দিনে সকালে স্বর্ণের দাম হ্রাস করা হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের ভরি নির্ধারিত ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। পরবর্তী সময়ে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয়ের মাধ্যমে বর্তমান দর কার্যকর করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৬০ বার সমন্বয় করা হয়েছে—এর মধ্যে ৩৩ বার বৃদ্ধি এবং ২৭ বার হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং পূর্ব নির্ধারিত দরই বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বৈশ্বিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় মূল্যমানের পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এ ধরনের সমন্বয় অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশীয় স্বর্ণবাজারে মূল্য সমন্বয়ের ধারাবাহিকতায় আবারও কমানো হলো স্বর্ণের দাম। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংস্থাটির স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা স্বর্ণ) দামের নিম্নমুখী প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্যহ্রাস কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণের দাম কমানো হয়—২৯ এপ্রিল, ২৮ এপ্রিল এবং ২৩ এপ্রিল—যার ফলে সাত দিনের মধ্যে মোট চার দফায় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি দাম কমেছে ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। সংশোধিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী— ২২ ক্যারেট: ২,৪০,৩৩৭ টাকা (প্রতি ভরি) ২১ ক্যারেট: ২,২৯,৪৩১ টাকা (২,০৪১ টাকা হ্রাস) ১৮ ক্যারেট: ১,৯৬,৬৫৫ টাকা (১,৭৫০ টাকা হ্রাস) সনাতন পদ্ধতি: ১,৬০,১৪৭ টাকা (১,৪৫৮ টাকা হ্রাস) অপরদিকে, স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এলেও রুপার দামে কোনো সংশোধন আনা হয়নি। বিদ্যমান দর অনুযায়ী— ২২ ক্যারেট রুপা: ৫,৪৮২ টাকা ২১ ক্যারেট: ৫,১৯০ টাকা ১৮ ক্যারেট: ৪,৪৯১ টাকা সনাতন পদ্ধতি: ৩,৩৮৩ টাকা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ওঠানামা ও দেশীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও ধারাবাহিক হ্রাস বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক তেলবাহী জাহাজ আগমন অব্যাহত রয়েছে; এরই ধারাবাহিকতায় ৩৪ হাজার টন জেট ফুয়েল বহনকারী চীনা পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘শিং তং ৭৯৯’ বহির্নোঙরে নোঙর করেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দর-এর বহির্নোঙরে জাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। প্রায় ১৮২ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ ট্যাংকারটির ড্রাফট বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে কুতুবদিয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে জ্বালানি খালাসের মাধ্যমে ড্রাফট হ্রাস করা হচ্ছে; পরবর্তীতে জাহাজটিকে জেটিতে এনে পূর্ণাঙ্গ আনলোডিং সম্পন্ন করা হবে। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর থেকে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল (জেট এ-১) বহনকারী ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ বন্দরে পৌঁছায়। একই ধারাবাহিকতায় শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ৩৫ হাজার ৫৫ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘প্রিভে অ্যাঞ্জেল’ জেটিতে ভেড়ে। এছাড়া শুক্রবার তাইওয়ান থেকে ৩৩ হাজার ৪০০ টন ডিজেল নিয়ে পাকিস্তানি পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘এমটি কোয়েটা’ বহির্নোঙরে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধারাবাহিকভাবে এসব জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আগমনের ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হবে এবং চাহিদা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লেনদেনে স্পট স্বর্ণের মূল্য ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৩ ডলারে নেমে আসে, যা টানা উর্ধ্বগতির পর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ৩.৫ শতাংশ পতন নির্দেশ করে। বাজার সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফিউচার্স বাজারেও ১ শতাংশ দরপতন হয়ে মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬৭৬ দশমিক ৫০ ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি-ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের হার বহাল থাকার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সম্ভাবনা তেলের দামকে উঁচুতে ধরে রাখছে, যা বিকল্প নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বর্ণের দাম বর্তমানে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিই ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনায় প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশীয় বাজারে মূল্য পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে স্বর্ণ ও রুপার দামে হ্রাস এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য কমতি এনে ২২ ক্যারেটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কম। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা একইদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে রুপার বাজারেও মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার দাম প্রতি ভরি ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় বিক্রি হবে। সংগঠনটির তথ্যমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৫৬ দফা এবং রুপার দাম ৩৫ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির আলোকে এই ধরনের মূল্য পুনর্নির্ধারণ অব্যাহত থাকতে পারে।
দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ ও কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষাপটে মূল্যবান ধাতুর দামে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী সমন্বয় কার্যকর করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ নির্ধারিত দামে শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে স্বর্ণ ও রুপা নতুন দামে বিক্রি হচ্ছে। সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দর বৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এনে এ সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল জারি করা সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা এবং রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়ানো হয়, যা একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশীয় সরবরাহ পরিস্থিতির প্রভাবে এ খাতে মূল্য সমন্বয়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামীতেও দামে পুনঃসমন্বয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রায় চার দশকের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রার পর আন্তর্জাতিক ডেনিম বাণিজ্যে নেতৃত্ব আরও দৃঢ় করেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই প্রধান বাজারে দেশটির ডেনিম পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি। সরকারি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তথ্যসূত্র—বিশেষত অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) ও ইউরোস্ট্যাটের উপাত্তে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি ৯৬ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যেখানে প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ এবং বাজার হিস্যা প্রায় ২৬ শতাংশ। অপরদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ১৬৪ কোটি ডলারের রপ্তানির মাধ্যমে ২১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে। বাজার প্রতিযোগিতায় মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়া অনুসরণ করলেও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও বাজার দখলে বাংলাদেশ স্পষ্টতই অগ্রগামী অবস্থানে রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, গত দেড় দশকে দেশীয় ডেনিম শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় মিলগুলো মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম, যা পূর্বে আমদানিনির্ভর ছিল। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো, জ্বালানি ও কাঁচামালের তুলনামূলক প্রাপ্যতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্বিন্যাস বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা জোরদার করেছে। আইনগত ও বাণিজ্যিক কাঠামোর দৃষ্টিকোণ থেকে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণ—এসব উপাদান বাংলাদেশের ডেনিম খাতকে একটি টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মত দিয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশের রিজার্ভ—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও ডলার সরবরাহের স্থিতিশীলতার ফলে মোট রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আইএমএফের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার, আর গ্রস রিজার্ভ পৌঁছেছে ৩৫.০৩ বিলিয়ন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যমতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিই এ অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি। চলতি মাসের প্রথমার্ধে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। একদিনেই ১৮১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডলার বাজারে ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় অব্যাহত রেখেছে এবং এপ্রিল মাসেই একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ প্রবণতা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনলেও আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সার্বিক বিবেচনায়, রেমিট্যান্সনির্ভর এই রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সতর্ক নীতি সহায়তা প্রয়োজন।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ফের বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে এ নতুন দর কার্যকর হয় বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। নতুন মূল্য তালিকায় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫৫ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৩২ বার বৃদ্ধি এবং ২৩ বার হ্রাস করা হয়েছে, যা বাজারে উচ্চমাত্রার অস্থিরতা নির্দেশ করছে।
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১২ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।তিনি জানান, এই সময়ে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল প্রায় ১১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১০৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে বছর ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর আগে মার্চ মাসে দেশে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতেও প্রবাহ ছিল যথাক্রমে ৩০২ কোটি ও ৩১৭ কোটি ডলারের বেশি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ধারাবাহিক এই ঊর্ধ্বমুখী রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে মুদ্রার শক্ত অবস্থান ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে মূল্যহ্রাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল অনুযায়ী স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ০.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৭১৮.৯৮ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জুন ডেলিভারি গোল্ড ফিউচারস প্রায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,৭৪২ ডলারে নেমে আসে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার ও তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্বর্ণ থেকে সরে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশা স্বর্ণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। রুপা ও প্লাটিনামের দাম কমলেও প্যালাডিয়ামের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্য স্থিতিশীল থাকলেও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত নতুন দর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানায়, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৪ বার এবং রুপার দাম ৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে।
দেশের স্বর্ণবাজারে দীর্ঘদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এবার বড় পতন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার রাতের সিদ্ধান্তে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এবারের সমন্বয় অনুযায়ী, দেশের বাজারে ১১.৬৬৪ গ্রামের একটি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা, যা একদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে পতিত হয়েছে। এই মূল্য পরিবর্তন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে এবং স্বর্ণের বাজারে নতুন প্রভাব ফেলেছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের স্বর্ণ ও রূপার বাজারে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি রূপার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে; ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরে স্বর্ণের দাম দেশের বাজারে মোট ৫৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১ বার বৃদ্ধি এবং ২২ বার হ্রাস করা হয়েছে। রূপার ক্ষেত্রে ৩২ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ বার বৃদ্ধি ও ১৪ বার হ্রাস।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারি প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে রাত ৮টার পর ঢাকার সকল দোকান ও শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হোটেল, ফার্মেসি ও জরুরি প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের দোকান এবং কাঁচাবাজার এই নির্দেশের বাইরে থাকবে। সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আলোচিত এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়কে সর্বাধিক কার্যকর করা।
দেশীয় স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আবারও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), যা ভোক্তাদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে এ সমন্বয় আনা হয়েছে। নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক উত্থান স্থানীয় বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে জানুয়ারির শেষ দিকে একদিনে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে, বাজার বিশ্লেষকরা স্বর্ণের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, দেশের ছয়টি ব্যর্থ এনবিএফআই (ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরবরাহ করা হতে পারে। রোববার (২৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, প্রথম কিস্তিতে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং জুনের মধ্যে দ্বিতীয় কিস্তিতে ৩,০০০ কোটি টাকা ছাড়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিকুইডেশনে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড গত ২৭ জানুয়ারি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। এছাড়া আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠনের জন্য সীমিত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৩৫টি এনবিএফআই-র মধ্যে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫,৮০৮ কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৩ শতাংশ খেলাপি। সমস্যা মুক্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানের মূলধন উদ্বৃত্ত এবং লাভজনক অবস্থায় রয়েছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আমানতকারীদের নিট আমানত প্রায় ৪,৯৭১ কোটি টাকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরত দেওয়া হবে।