ক্যামেরুন সফরে বৈশ্বিক যুদ্ধনীতি ও ক্ষমতাধর নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অল্প কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংঘাতকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার পরপরই। পোপ লিও বলেন, যুদ্ধবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমন আচরণ করছে যেন তারা ধ্বংসের পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ, অথচ ধ্বংস করতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট হলেও পুনর্গঠনে লাগে পুরো জীবন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে হাজারো প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল অর্থ যুদ্ধ ও ধ্বংসে ব্যয় হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের মতো মানবিক খাতে অর্থ বরাদ্দে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতাকে আরও গভীর করছে। পোপ লিও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই ‘দৃঢ় ও নৈতিক পরিবর্তনের পথ’ গ্রহণ করা জরুরি।
হাঙ্গেরির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণমাধ্যম ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগয়ার। তিসা পার্টির নেতৃত্বে নির্বাচনে বিপুল জয় পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ভিক্টর অরবানের শাসনের অবসান ঘটান। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সংবাদ সম্প্রচার সাময়িকভাবে স্থগিত করার ইঙ্গিত দেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে মাগয়ার উপস্থাপকদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ আনেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে ‘প্রচারযন্ত্রের অবসানের সূচনা’ হিসেবে মন্তব্য করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সংস্কার, নতুন মিডিয়া আইন প্রণয়ন এবং স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং একাডেমিক ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি তামাস সুলিয়কের পদত্যাগও দাবি করেছেন, দাবি করে বলেন যে তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, আইনের শাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রায় ১৬ বিলিয়ন ইউরো পুনরুদ্ধার তহবিল এখনো স্থগিত রয়েছে। এই অর্থ ছাড় নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে নতুন সরকার ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথে উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে দেশটি হরমুজ প্রণালীর ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে। সূত্র অনুযায়ী, সম্ভাব্য একটি চূড়ান্ত সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হলে এই সুবিধা কার্যকর হতে পারে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই প্রণালিতে নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে গুরুতর সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শতাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও হাজারো নাবিক উপসাগরীয় এলাকায় আটকে পড়েছে। যদিও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ইস্যু এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তেহরানঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ওমান নিয়ন্ত্রিত জলসীমা ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলে শিথিলতা দেওয়া হতে পারে; তবে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাইন অপসারণ কিংবা নির্দিষ্ট দেশের জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক শর্ত পূরণের ওপরই এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন নির্ভর করছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি। দেশটির জিলং-এর কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জি পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বলতে থাকে, যা পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে কর্মরত সকল ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। উক্ত শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় অর্ধেক এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায়, এর কার্যক্রম আংশিকভাবে ব্যাহত হওয়াকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে—এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি উদ্বেগজনক। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো নিরূপণাধীন রয়েছে এবং সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। অন্যদিকে, কোম্পানির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও অন্যান্য ইউনিট কার্যকর রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন সীমিত রাখা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য— ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণায় জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) সরাসরি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, গত প্রায় ৩৪ বছর ধরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল , সেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক স্থবিরতা অবসানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে এবং এই সংলাপকে পরিস্থিতি উন্নয়নের একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাস্তবসম্মত ও সংযত অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার তাগিদ দেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চীন সফরকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ল্যাভরভ বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কখনও নিশ্চিত করেনি যে ইরান সামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের উচিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নীতিগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করা। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হতে চায়, তবে রাশিয়া সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। আইএইএ সূত্র অনুযায়ী, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যার সমৃদ্ধতার মাত্রা প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধতায় পৌঁছালে তা পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে ব্যবহৃত হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে ইরান তার পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে, যদিও তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্য প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এমন এক অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে বলা হচ্ছে—ইরান একটি চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর নজরদারি সক্ষমতা অর্জন করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া সামরিক নথির বরাতে এই দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘টিইই-০১বি’ নামের স্যাটেলাইটটি একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎক্ষেপণের পর ২০২৪ সালের শেষদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটির ওপর নজরদারি চালানো হয় এবং সামরিক অভিযানের আগে-পরে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার চিত্র সংগ্রহ করা হয়। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট চুক্তির আওতায় ইরান বেইজিংভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাউন্ড স্টেশন ব্যবহারের সুবিধা পায়, যার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে রয়টার্স এ তথ্যের স্বাধীন যাচাই নিশ্চিত করতে পারেনি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো—হোয়াইট হাউস, পেন্টাগন কিংবা চীনা কর্তৃপক্ষ—এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্যদিকে, চীন এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার অভিযোগ আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষত রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে। আইন ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে এই অভিযোগ নতুন করে ভূরাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আঞ্চলিক সংঘাতে তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার অভিযোগে কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহায়তার অভিযোগ তুলে উপসাগরীয় পাঁচ রাষ্ট্র—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান—এর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ দাবি উত্থাপন করেছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এক আনুষ্ঠানিক পত্রে আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে প্রতিপক্ষকে সহযোগিতা করেছে, যার ফলে সৃষ্ট সামরিক সংঘাতে ক্ষয়ক্ষতির দায় তাদের ওপরও বর্তায়। পত্রে ইরান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র হিসেবে তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংরক্ষণ করে। তবে এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিপুল অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনি বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং নির্ভরযোগ্য অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত চলবে। নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে শ্রমঘাটতি পূরণ, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে মাদ্রিদ। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার উল্লেখ করেছে। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত নীতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালি-এ যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধের চাপের মুখে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ ‘রিচ স্টারি’ পুনরায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে শিপিং সূত্রে জানা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলেও বুধবার জাহাজটি আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরে আসে। এর আগে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই নৌ-অবরোধ কার্যকর করে। যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজই মার্কিন নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে পারেনি এবং কয়েকটি জাহাজকে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। শিপিং ডেটা অনুযায়ী, চীনা মালিকানাধীন ‘রিচ স্টারি’ জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মিথানল বহন করে রওনা হয়েছিল এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় এটি বাধার মুখে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলমান এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, নৌ-বাণিজ্য ও বিমা খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উন্নতমানের সামরিক ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী। ঘটনাটি ঘটে গত ৯ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি এলাকায়। বিধ্বস্ত ড্রোনটি ছিল এমকিউ ৪সি ট্রাইটন, যা দীর্ঘ সময় উচ্চ আকাশে থেকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনায় সক্ষম এবং “ডানাযুক্ত উপগ্রহ” হিসেবে পরিচিত। প্রায় ২৪ কোটি ডলার মূল্যের এই ড্রোনটি নর্থরপ গ্রুম্যান-এর তৈরি এবং এটি ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত সিগোনেল্লা নৌঘাঁটি থেকে পরিচালিত হচ্ছিল। নৌবাহিনীর তথ্যমতে, নিয়মিত মিশন শেষে ফেরার পথে ড্রোনটি হঠাৎ বিপদ সংকেত পাঠায় এবং পরবর্তীতে এর সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং এরপর আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ড্রোনটি শত্রুপক্ষের আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে।
ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় চীন-কে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। বেইজিংয়ে শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ল্যাভরভ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়া চীনের জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি পূরণে সক্ষম এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতার জন্য মস্কো প্রস্তুত। বিশেষ করে ইরান-নির্ভর জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চীনের শিল্প ও অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা লাঘবে এই প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাশিয়া-চীন কৌশলগত সম্পর্ক বর্তমান বৈশ্বিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অটুট রয়েছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল জোট হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ফলে ইরানের তেল রপ্তানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে চীনের জ্বালানি সরবরাহে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহ প্রস্তাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ইতালি সরকার ইসরায়েল-এর সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ইতালির ভেরোনা শহরে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্র মতে, ২০০৬ সালে স্বাক্ষরিত উক্ত চুক্তির আওতায় সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রযুক্তিগত গবেষণা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি নিয়মিত মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি তলবের ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযত থাকার আহ্বান জানান। এদিকে আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত হওয়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও মার্চ–এপ্রিল সময়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মহসেন পাকনেজাদ। তিনি বলেন, সংকটকালেও রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে এবং অর্জিত আয়ের অংশ তেল খাত পুনর্গঠনে ব্যয় করা উচিত। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আল জাজিরা-এর বরাতে জানা যায়, ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি অপরিশোধিত তেলের বাজারমূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরও উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুট হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে একটি চীনা ট্যাংকার অবরোধ উপেক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রিচ স্টারি’ নামের ওই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দর থেকে প্রায় আড়াই লাখ ব্যারেল মিথানল বহন করে যাত্রা করে এবং উপসাগরীয় জলসীমা অতিক্রম করে বেরিয়ে যায়। জাহাজটির মালিকানা রয়েছে সাংহাইভিত্তিক একটি শিপিং কোম্পানির অধীনে। ঘটনাটি চলমান অবরোধ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধ ও সামরিক তৎপরতাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আখ্যা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থাকে দুর্বল করবে। সাংবাদিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং লক্ষ্যভিত্তিক অবরোধ আরোপের মাধ্যমে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি এলাকায়। বেইজিং আরও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। চীন বরাবরই শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ভারতের উত্তরপ্রদেশ-এর নয়ডা-এ বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত কর্মপরিবেশের দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে শহরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিকের অংশগ্রহণে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তী দিনগুলোতেও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি ব্যক্তিকে আটক করেছে। বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পূর্বজ্ঞান থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শ্রমিকদের আর্থিক দুর্দশাকে আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতের আহ্বান জানান। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অস্থিরতাকে “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং এতে বিদেশি যোগসূত্র থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন দাবি করেছে, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী পরিস্থিতিকে সহিংসতায় রূপ দিয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তিতে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি গড়ে ২১ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যদিও আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই শ্রমিক আন্দোলন এখন কেবল অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল-সাদ এক উচ্চপর্যায়ের টেলিফোন আলাপে এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আব্বাস আরাঘচি-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ব্যর্থ কূটনৈতিক সংলাপের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইরান পক্ষ আলোচনায় অংশগ্রহণে সদিচ্ছা প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে অনমনীয় ও অসমঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী শান্তি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি-কেন্দ্রিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব বাণিজ্যের কৌশলগত রুট হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। সোমবার (১৩ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, চলতি সপ্তাহে উভয় দেশ যৌথভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে, যেখানে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের বিষয়ে আলোচনা হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, প্রস্তাবিত মিশনটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধরত কোনো পক্ষের বাইরে থেকে পরিচালিত হবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, হরমুজে অস্থিতিশীলতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এদিকে চীন সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান দাবি করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি ও ইউএসএস ফ্র্যাঙ্ক ই পিটারসন প্রণালির নিকটে পৌঁছালে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয়। পরবর্তীতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করা হয়। ইরানের সামরিক সূত্র দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধজাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্যথায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কতা ছিল। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন জাহাজগুলো দ্রুত সরে যায় বলে উল্লেখ করা হয়। এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে তাদের নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং এ অঞ্চলে কোনো ধরনের ‘গোপন বা উস্কানিমূলক সামরিক তৎপরতা’ সহ্য করা হবে না। ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ চলমান রয়েছে—যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এ পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সামরিক তৎপরতা ইরানের নৌবাহিনীর নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে। তিনি ট্রাম্পের হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরাজয় ঢাকার ব্যর্থ প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীতের সংঘাতে ব্যর্থতার পর এ ধরনের ঘোষণা কেবল দুর্বলতাই প্রকাশ করে। ইরানি নৌপ্রধান দাবি করেন, তাদের বাহিনী আঞ্চলিক জলসীমায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি শক্তির চাপ বা অবরোধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও ব্যর্থ আলোচনার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও উঠে এসেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারীকে চিফ অব আর্মি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কয়েল বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এ নিয়োগকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা কাঠামোয় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেন, এ নিয়োগ শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের জন্য এটি একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণার বার্তা। ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বকে দেশটির সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স (এডিএফ) বর্তমানে নারীদের অংশগ্রহণ ২১ শতাংশে উন্নীত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ২৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।