যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর নেতৃত্ব নিয়ে নিজ দল লেবার পার্টির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। দলটির এমপি ক্যাথেরিন ওয়েস্ট মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি আরও তীব্র করেছেন।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়েস্ট বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে যদি মন্ত্রিসভার ভেতর থেকে বিকল্প নেতৃত্ব সামনে না আসে, তবে তিনি নিজেই নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ প্রক্রিয়া শুরু করবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে লেবার এমপিদের সমর্থন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার পথেও যাবেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচনে দলের খারাপ ফলাফলের পর স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন এবং আগামী সাধারণ নির্বাচনেও নেতৃত্বে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
লেবার পার্টির বিধান অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু করতে অন্তত ২০ শতাংশ এমপির সমর্থন প্রয়োজন, যা এই মুহূর্তে প্রায় ৮১ জন সদস্যের সমর্থনের সমান। ওয়েস্ট দাবি করেছেন, ইতোমধ্যে একাধিক এমপি তার উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকারের এক মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, বারবার নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব স্টারমারের নেতৃত্বকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে, নাকি তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে—সেই প্রশ্ন এখন ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।