ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সংসদ নির্বাচন একটি জটিল ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, এতে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হলে তারা এবং তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংক্রান্ত আইনে যাদের দায়িত্ব নির্ধারিত রয়েছে, কেবল তাদেরই নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত রাখা উচিত। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কাউটদের যুক্ত করার যে আলোচনা শোনা যাচ্ছে, সে বিষয়েও বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন বিএনপির বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করে বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বিএনপি আরও কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনী এলাকায় তথাকথিত ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের গুঞ্জন, বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি, অতিরিক্ত ও অপরিচিত স্থানীয় পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক স্থানান্তরের অভিযোগ। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে বিতর্কিত; কমিশন জানিয়েছে, এমন কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেই। তবে শৃঙ্খলা রক্ষায় ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের নিজ নিজ এলাকা ত্যাগ করা প্রয়োজন বলে বিএনপি মত দিয়েছে।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে, যা কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিষয়টি তদন্ত করে আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটির কার্যক্রম জনসম্মুখে দৃশ্যমান করার আহ্বান জানায় বিএনপি।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে সংবিধানসম্মত ভূমিকা পালনে আরও সক্রিয় হতে হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।