দুই যুগ পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীলফামারী সফরে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে জেলা জুড়ে নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রচারণার অংশ হিসেবে উত্তরাঞ্চল সফরে আগামীকাল শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নীলফামারী পৌরসভার বড় মাঠে জেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। এর আগে সকাল ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমানযোগে অবতরণ করে হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁও জেলার হাইস্কুল মাঠের জনসভায় অংশ নেবেন। পরে সেখান থেকে হেলিকপ্টারে নীলফামারীতে এসে জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
জনসভায় নীলফামারী জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম জানান, ২০০৩ সালে শীত মৌসুমে তারেক রহমান নীলফামারীর শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ডোমার থেকে নীলফামারী পর্যন্ত সড়কের পাশে কম্বল বিতরণ করেছিলেন। সেই মানবিক কর্মকাণ্ড আজও সাধারণ মানুষের স্মৃতিতে অমলিন।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা বিএনপির সদস্য রেদোয়ানুল হক বাবুর নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
মঞ্চ প্রস্তুত ও জনসভা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল্লাহ রুবেল জানান, বড় মাঠে উঁচু প্যান্ডেল নির্মাণের কাজ চলছে। জনসভা সফল করতে উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।