ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে ভোটের মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শহর ও গ্রামে প্রার্থী, সমর্থক ও কর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিটি বাড়ি ও গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন, লিফলেট বিতরণ ও প্রার্থীর পক্ষ সমর্থন জানানো হচ্ছে।
কামারপুকুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুরে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের সিদ্দিকুল আলমের প্রচারণায় প্রায় ৩০ জন নারী ও পুরুষ দলবদ্ধভাবে অংশ নিচ্ছেন। তারা হাতে লিফলেট, গলায় প্রতীক প্রদর্শন করে গ্রামে গ্রামে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর উদ্দেশ্য তুলে ধরছেন। প্রতিটি প্রচারণা কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মীদের কিছু অর্থ প্রাপ্তি হয়। এই প্রচারণার মাধ্যমে প্রার্থী ও দলের উপস্থিতি গ্রামে দৃশ্যমান হচ্ছে।
এই আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সক্রিয়ভাবে ভোটারদের কাছে পৌঁছাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সমর্থন পাওয়ায় নির্বাচনী মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নির্বাচন উৎসবমুখর হলেও প্রতিটি দল তাদের কর্মীদের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রার্থীর প্রস্তাব ও যোগ্যতা তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রচারণার মাধ্যমে ভোটাররা প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হতে পারছে, যা ভোট গ্রহণের পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।