নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই দলটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগ্রহী। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায় এবং বিএনপি সেই প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখেই নীতিগত ও কাঠামোগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডকে সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে সারাদেশে আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং বেকারত্ব হ্রাস পাবে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের জন্য সহজ শর্তে সরকারি ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে প্রবাসে যেতে গিয়ে কাউকে জমিজমা বা সম্পদ বিক্রি করতে না হয়।
ধর্মীয় পেশাজীবীদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী ও সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
ঢাকা-১৭ আসনের নাগরিক সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, যানজট, জলাবদ্ধতা ও বায়ুদূষণসহ রাজধানীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, সংকটময় সময়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি দেশের মানুষের সঙ্গেই ছিলেন। বিএনপিও একইভাবে দেশ ও জনগণের পাশে থাকার রাজনীতি অনুসরণ করছে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপিই একমাত্র দল, যারা সুসংহত রাষ্ট্রগঠনের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছে এবং অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণের আস্থার ওপর ভর করেই এগোতে চায়।
খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর অবশেষে বিষয়টির অবসান ঘটেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কবি মাসুদ অরুণ পারস্পরিক সাক্ষাতে স্পষ্ট করেছেন, ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়জনিত পরিস্থিতির ফল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো আচরণ নয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাতের পর মাসুদ অরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত জনসমাগমের মধ্যে স্বাভাবিক ধাক্কাধাক্কির একটি অংশ বিশেষভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা দুই নেতার পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রকার ইচ্ছাকৃত আক্রমণ বা অসদাচরণের উপাদান প্রতীয়মান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। উভয় পক্ষই বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যায়িত করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয় জোট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে তারা সম্মিলিতভাবে কক্ষ ত্যাগ করে। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক আপত্তি উপেক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বিল পাস করা হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী। এ প্রেক্ষাপটে উক্ত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার দায়ভার এড়াতেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এদিন অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয় এবং কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়। যেসব প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারায় বিরোধী জোট আপত্তি জানিয়েছে, তার মধ্যে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল, জেলা পরিষদ সংশোধন বিল ২০২৬, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন-সংক্রান্ত বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিলসহ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল উল্লেখযোগ্য। ঘটনাটি সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী মতামতের প্রতিফলন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নির্বাহী সরকারের প্রভাববহুল দুর্নীতি দমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “যে কমিশন সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, তা কখনোই স্বতন্ত্রভাবে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।” জারা উল্লেখ করেছেন, সরকার একটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে যা দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই বড় আর্থিক দুর্নীতি বা অর্থপাচারের মামলা দায়েরের ক্ষমতা দিত। এছাড়া, একটি স্বতন্ত্র বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও স্থগিত রাখা হয়েছে। জারা বলেন, “হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধানকে ব্যবহার করে অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়া অযৌক্তিক। একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে।” তিনি সতর্ক করেছেন, সরকার যদি স্বাধীন বাছাই কমিটি গঠন না করে, তবে দুদক হবে “সরকার নির্ভরশীল” এবং বিরোধী দলকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। তিনি আইন বাতিলের পরিবর্তে সংশোধনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সংস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।