ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট–৩ (রামপাল–মোংলা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম রেকর্ড সংখ্যক ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। অতীতের সব ব্যবধান ছাড়িয়ে তার এই জয় এলাকায় রাজনৈতিকভাবে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি করেছে।
রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট–৩ আসনের ১০৫টি ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট গণনা শেষে সন্ধ্যার পর থেকে ফলাফল প্রকাশ শুরু হয়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট।

নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
বিজয়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “এই জনপদ শান্তি ও উন্নয়নের জনপদ। আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান–এর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অঞ্চলকে নতুনভাবে সাজানো হবে। সবাই শান্ত থাকবেন, কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়াবেন না। সকলকে সঙ্গে নিয়ে এই জনপদের উন্নয়নে কাজ করবো।”
ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের এই রেকর্ড জয়ে এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।