ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার। বিএনপি হাইকমান্ড ইতিমধ্যে নতুন মন্ত্রীপরিষদ গঠনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তবে পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনকে ঘিরে এখনো একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তব হবে কি না?
স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বিএনপির দখলে থাকা এই আসনে এবারও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু আগের সময়ে মন্ত্রী না হওয়ায় শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে এলাকার উন্নয়ন পিছিয়ে গেছে।

৮ ফেব্রুয়ারি বোদা ও দেবীগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় দলের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ফরহাদ আমার ছোটভাই। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছে। নির্বাচিত হলে সরকারে তিনি মন্ত্রিসভায় থাকবেন। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।”
স্থানীয় নেতা ও ভোটাররা দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা, তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে অবস্থানের কারণে ফরহাদ হোসেন আজাদকে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে মনে করছেন। বোদা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিলরেজা ফেরদৌস চিন্ময় বলেন, “নির্বাচিত প্রার্থী মন্ত্রিত্বে থাকলে নতুন কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
এ পর্যন্ত দলীয় শীর্ষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে বোদা ও দেবীগঞ্জে ভোটারদের মনেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—মহাসচিবের দেওয়া প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবে রূপ নেবে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।