নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০টির বেশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের পরাজিত প্রার্থী সারজিস আলম। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত। বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দেন।
তবে সরেজমিনে সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ঘটনাই স্থানীয়ভাবে সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ক্ষুদ্র সংঘর্ষের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ। সংশ্লিষ্টরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তেঁতুলিয়ার তিরনইহাট ইউনিয়নে স্বপন রানা নামে এক সমর্থক বাড়ির টিনের বেড়া ও জানালায় ধাক্কার অভিযোগ করেন। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, এটি দুই পক্ষের মিছিল চলাকালে সামান্য ধাক্কাধাক্কির ঘটনা।
সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে এক দোকানদার দোকান বন্ধ রাখতে চাপের অভিযোগ তুললেও মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আটোয়ারীতেও আগুন ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে, তবে বিএনপি নেতারা তা অস্বীকার করে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেন।
বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট নওফল আরশাদ জমির বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে সরে এসে ইতিবাচক রাজনীতির বার্তা দেওয়া হয়েছে। কেউ অপব্যবহার করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে ছোটখাটো ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বড় ধরনের কোনো সহিংসতার তথ্য পাওয়া যায়নি এবং এ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।