শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় যানজট নিরসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে অবৈধ স্থাপনা ও রাস্তার জায়গা দখল করে রাখা মালামাল জব্দ করা হলে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এসিল্যান্ড) আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাজার এলাকায় যানজট বৃদ্ধি ও রাস্তা দখলের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন এ অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালে কয়েকটি দোকানের সামনে রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। এ সময় বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু ব্যবসায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে দোকানের সীমানার ভেতরে থাকা মালামালও জব্দ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা নিজেদের নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই পণ্য রেখেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন তা অগ্রাহ্য করে মালামাল গাড়িতে তুলে নেয়। তাদের অনুরোধ সত্ত্বেও কিছু পণ্য ফেরত দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান জানান, জনস্বার্থে যানজট নিরসন ও বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, “রাস্তার ওপর অবৈধভাবে রাখা মালামাল জব্দ করা হচ্ছিল। এ সময় সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন দলবল নিয়ে এসে অভিযানের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং জানতে চান এমপি’র অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। এর কয়েকদিন আগেও আমি এবং ওসি মিলে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছিলাম।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি একটি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তার অভিযোগ, মোবাইল কোর্টের নামে দোকানের ভেতরের মালামালও জব্দ করা হচ্ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় কিছু বহিরাগত ব্যক্তি মালামাল উঠাতে সহায়তা করছিলেন, যারা প্রশাসনের নিয়মিত স্টাফ নন। এছাড়াও তিনি মাইকিং করে আগে বিষয়টি অবগত না করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছিলো এতে কিছু গরীব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলো।
পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক থাকলেও বিষয়টি নিয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।