একবিংশ শতাব্দীর যান্ত্রিক ও ডিজিটাল বিপ্লবের এই সময়ে, যখন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্র ক্রমেই বাণিজ্যিকতার আবরণে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, তখন পীরগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে আসা একটি মানবিক উদ্যোগ আমাদের সমাজকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। গ্রামের দুই নিবেদিতপ্রাণ মানুষ—মোঃ সালাউদ্দিন ও মোঃ জাহাঙ্গীর—দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে কবর খনন করে চলেছেন। তাদের এই কাজ কেবল সমাজসেবা নয়, বরং এক গভীর মানবিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বর্তমান বাস্তবতায় মৃত্যুর পরও অর্থের হিসাব-নিকাশ থেকে মুক্তি মেলে না। শোকাহত পরিবারের জন্য কবর খনন ও দাফনের ব্যয় অনেক সময় বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে সালাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর নিঃস্বার্থভাবে পাশে থাকছেন। তারা পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না; বরং এই কাজকে ইবাদত ও পরকালের পাথেয় হিসেবে মনে করেন। সালাউদ্দিনের কথায়, “কেউ না কেউ তো আমার কবর খুঁড়বে, তাহলে আমি কেন অন্যের কবর খননের জন্য পারিশ্রমিক নেব?”—এই উপলব্ধিই তাদের কাজের মূল শক্তি।
পীরডাঙ্গী কবরস্থানে তারা শতাধিকবার কোদাল ধরেছেন। এটি শুধু মাটি কাটার কাজ নয়; বরং একজন মানুষকে শেষ শয্যায় যথাযথ সম্মান দেওয়ার দায়িত্ব। সমাজের অনেকেই যেখানে সংকোচে সাহায্য চাইতে পারেন না, সেখানে এই দুই বন্ধু শহরের দেয়াল ও গাছে বিজ্ঞপ্তি লাগিয়ে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। এটি যেন অসহায় মানুষের প্রতি এক নির্ভরতার বার্তা—শেষ বিদায়ে তারা একা নন।
ডিজিটাল প্রচারের যুগে দাঁড়িয়ে এই উদ্যোগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবিকতার জন্য প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন হৃদয়ের বিশালতা। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এক উজ্জ্বল উদাহরণ—নিঃস্বার্থ সেবা এখনো বেঁচে আছে।
১ মার্চ ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে পীরগঞ্জের এই ঘটনাটি আমাদের আশাবাদী করে তোলে। এমন উদ্যোগ শুধু একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই প্রত্যাশা। সালাউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের এই মানবিক দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে আমাদের সময়ের জন্য এক আলোর দিশা।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।