চীনের অধ্যাপক জুয়েকিন জিয়াং-এর দুই বছর আগের পূর্বাভাস এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করেন এবং ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক ইতিহাসের মাধ্যমে বৈশ্বিক রাজনীতি বিশ্লেষণ করেন।
জিয়াং ২০২৪ সালের মে মাসে এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরবেন এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পথে নামতে বাধ্য হবেন। এছাড়া তিনি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সংঘাতের ফলে দেশটি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার ওই অনলাইন বক্তৃতা সামাজিক মাধ্যমে পুনরায় ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই দুইটি পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হয়েছে—ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এবং ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার বৃদ্ধি। বাকি তৃতীয় পূর্বাভাসের ফলাফল বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
জিয়াং বিশ্লেষণ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কেবল সামরিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবেনা; এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোরও সমালোচনামূলক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। তেহরান-ওয়াশিংটনের দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাবে এবং বিশ্ববাজারকে প্রভাবিত করবে।
তিনি সম্প্রতি ‘ব্রেকিং পয়েন্টস’ সংবাদসিরিজে বলছেন, “ইরান যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় এই সংঘাতে বেশি প্রস্তুত এবং সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশটি প্রায় দুই দশক ধরে এই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আমার পূর্বাভাস অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে পরাজিত হয়ে রাষ্ট্র হিসেবে ধ্বংস হবে কিনা।”
এই বিশ্লেষণ বিশ্বরাজনীতির আগ্রহীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নতুন করে সতর্ক সংকেত দেখাচ্ছেন।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।