বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জ্বালানি তেল পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তেল সংকটে পড়েছেন ক্রেতারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেও মিলছে না পেট্রোল ও ডিজেল। ফলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, নৌযান ও সড়কপথের যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রির দোকান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব দোকানের অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি দোকান খোলা আছে সেখানেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

সরকারি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ৬০ পয়সা হলেও খুচরা বাজারে তা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিজেল ১০০ টাকা ৬০ পয়সার পরিবর্তে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানদার আবার তেল না থাকার কথা জানিয়ে দোকান বন্ধ রেখেছেন।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ১০ ড্রাম তেল বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সপ্তাহে ২ থেকে ৪ ড্রাম তেল জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দুই-তিন দিন বিক্রির পর বাকি সময় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এদিকে ছোলমবাড়িয়া খেয়াঘাটে ট্রলার চালকরা ডিজেল না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বেশি দামে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘাট পরিচালক সুবল পাটনি বলেন, প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ নদী পারাপার করেন। কিন্তু তেলের সংকটে ট্রলার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
কৃষক, ট্রলার চালক ও সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, দ্রুত তেলের সংকট দূর করে পূর্বের মতো খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, উপজেলার খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।