বিয়ের সাজে নতুন বউকে নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সামনে ছিল পরিবারের সাথে প্রথম ইফতারের আনন্দ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মোংলার কাছেই থমকে গেল সেই পথ। বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ প্রাণ হারালেন ১৪ জন। এর মধ্যে বরের পরিবারেরই ৯ সদস্য। আজ জুমার নামাজের পর মোংলায় পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো তাদের।
বিয়ের আনন্দ নিয়ে ফেরা গাড়িটি পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে। নতুন বউ, বর আর স্বজনদের হাসিতে ভরা সেই যাত্রার সমাপ্তি হলো এক মুহূর্তের বিভীষিকায়। রাতভর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কেঁপে ওঠা মোংলা শহর আজ বিষাদ আর নিস্তব্ধতায় ঢাকা।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাবি ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং চার শিশু সদস্য সামিউল ইসলাম ফাহিম, আলিফ, আরফা ও ইরাম। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় বিলীন হয়ে গেল একটি পরিবারের প্রায় পুরো প্রজন্ম।
অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রায়। এছাড়া নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক নাঈম।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল থেকেই রাজ্জাকের বাড়িতে ভিড় জমান শোকাতুর এলাকাবাসী।
বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছাব্বিরের। বৃহস্পতিবার নতুন বউ নিয়ে ফেরার পথে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ জন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্যকে। বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই কবরের সারিতে ঠাঁই হলো তাদের। ইফতারের টেবিলে যাদের অপেক্ষায় ছিল প্রিয়জন, তারা ফিরলেন না আর— ফিরলো শুধু তাদের নিথর দেহ।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।