পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় সাতবাড়িয়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন লায়ন শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাহিরদিয়া ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য, ৪৫ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ১০ ফুট গভীর করে খালটি পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং প্রায় ১ হাজার ৫০০ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলার গাবখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় উপকারভোগী, নাগরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গোলাম মো. বাতেন। বক্তব্য দেন মো. মশিউর রহমান খান, শেখ মনজুরুল হক রাহাত, মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী, মো. আব্দুল্লাহ আল রশিদ, মো. মোতাহার হোসেন, শেখ কামরুল ইসলাম গোরা ও শেখ শরিফুল কামাল কারিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে একটি দরিদ্র ও বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে কৃষিতে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার নদী-নালা ও খাল পুনঃখননের মতো উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।