হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরুদ্ধার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
বুধবার (১৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে ৫ হাজার পাউন্ড ওজনের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বা বাঙ্কার বাস্টার বোমা ব্যবহার করে সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনায় মোতায়েন জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছিল।
সেন্টকম জানায়, ইরানের পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক অচলাবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দেয়, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতি এ অভিযানে সহায়তার আহ্বান জানালেও অধিকাংশ মিত্র রাষ্ট্র এতে সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রশ্নে মিত্রদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশিত ছিল।
অন্যদিকে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রাখা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। যদিও ইরান বরাবরই তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যসংশ্লিষ্ট বলে দাবি করে আসছে।
উল্লেখ্য, ব্যবহৃত বাঙ্কার বাস্টার বোমাগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ ও সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা ধ্বংসে সক্ষম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।