দিমোনা ও আরাদে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের স্বচ্ছতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির শান্তিকর্মী ও রাজনীতিবিদ ইয়ারিভ ওপেনহাইমার। রোববার (২২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে প্রকৃত তথ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম হওয়ার কারণ এবং তেহরানের কাছে বাকি ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন।
এই হামলার ফলে শতাধিক নাগরিক আহত হয়েছেন এবং দেশটির জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামরিক ও কূটনৈতিক ফ্রন্টেও উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গ্লোবাল পলিসি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট পাওলো ভন শিরাচ জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর প্রতিপক্ষের আকাশ নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ইরানি নেতৃত্বকে এখনো নতি স্বীকারে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি।
যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও অর্থনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানাচ্ছে, বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বিমান সংস্থা ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে। তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় ফ্লাইটের টিকিট মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পর্যটন ও বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানি ড্রোন হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি ও নিরাপত্তা খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। ইরাকের ইসলামি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, ইউরোপের গ্যাস সঙ্কট ও জাপানি নাগরিকদের মুক্তি—এই সব ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুতর চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।