জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগে সাতক্ষীরাজুড়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়ার অভিযোগ এবং ব্যবসা স্থগিতের হুমকিকে কেন্দ্র করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্থিরতা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মজুত পরিস্থিতি যাচাইসহ দৈনিক লেনদেনের হিসাবপত্র পর্যালোচনা করেন এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সরাসরি শোনেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একাংশ অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ সীমিত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অন্যদিকে, পাম্প মালিকদের দাবি—এক শ্রেণির অসাধু চক্র বারবার তেল সংগ্রহ করে তা অধিক মূল্যে পুনর্বিক্রি করছে, যা বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকরা আরও জানান, জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকার লুটের আশঙ্কাসহ সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেন।
এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণপদ পাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।