নীলফামারীর সৈয়দপুরের কুন্দল এলাকায় অবস্থিত রংধনু পার্কে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিড় করেছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে দিনভর ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিনোদনপ্রেমীরা। পার্কের টিকিট কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। গেটের বাইরে ভ্রাম্যমাণ হকারদের জটলাও চোখে পড়েছে।
পার্কে ঢুকেই গাছের ছায়ায় ঘুরে ঘুরে দর্শনার্থীরা উপভোগ করছেন পাথরের তৈরি বিভিন্ন প্রাণী ও পাখির মূর্তি। হাতি, বাঘ, ভালুক, হরিণ, সিংহ, জিরাফ ও ময়ূরের মূর্তির পাশাপাশি শিশুদের আকর্ষণ কাড়ছে ইঞ্জিনচালিত ট্রেন, নাগরদোলা ও সুইমিং পুল।

বিশেষ করে শিশুদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। “বাঘ মামা” ও “সিংহ মামা” বলে ডাকতে ডাকতে তারা মেতে উঠেছে আনন্দে। খাঁচায় থাকা বানর, কুমির ও পাখির কাণ্ড দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।
অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, কেউ লেকের ধারে বসে সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে খাবার খাচ্ছেন।
খানসামা থেকে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুরতে আসা রাজু আহমেদ বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফল করায় মেয়েদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রংধনু পার্কে নিয়ে এসেছেন। তারা ট্রেন ও নাগরদোলায় চড়ে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন রয়েছে, যাতে কেউ কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।