ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী তীব্র সংঘাত নিরসনে হোয়াইট হাউসের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে তেহরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি কেবল তাদের নিজস্ব শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী কার্যকর হবে।
তবে পাকিস্তানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবে মূলত ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ এবং ভবিষ্যতে হামলার নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্রধান শর্ত জোর করা হয়েছে—হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক ও আইনি অধিকার স্বীকার, ইরান ও মিত্র প্রক্সি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান, পুনরায় হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা এবং পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরানো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হওয়া মানেই সরাসরি আলোচনার অর্থ নয়। তেহরানের নীতি হলো ‘প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া’।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান এবং ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি আপাতত স্থগিত রেখেছেন। কিন্তু ইরান যদি সামরিক পরাজয় বোঝে না, যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। ইসরায়েলও হঠাৎ যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু পুনর্গঠন করেছে এবং সামরিক প্রস্তুতি বৃদ্ধি করেছে।
একই সঙ্গে ব্রিটেন হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ বলে অভিহিত করেছেন।
সূত্র মতে, ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার সৈন্য নিহত ও আহত হয়েছেন। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভুল পদক্ষেপ হলে তারা বাহরাইন ও আরব আমিরাতের উপকূলীয় এলাকা দখল করতে পারে এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।