মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মোংলায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পৃথক দুটি যুদ্ধজাহাজ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের দিগরাজ নেভাল জেটি ও বিসিজি জেটিতে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী জাহাজ দুটি পরিদর্শন করেন। তারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে জাহাজের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও যুদ্ধকালীন কৌশল সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধকালীন ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও দেখার সুযোগ পান।
এ আয়োজনের মাধ্যমে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দর্শনার্থীরা জানান, এমন উদ্যোগ তাদের জন্য একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা এবং তারা এ সুযোগ দেওয়ায় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বিসিজিএস কামরুজ্জামানের অধিনায়ক কমান্ডার শাহ কামরুজ্জামান জানান, কোস্ট গার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও নাবিকরা দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জাহাজের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে কোস্ট গার্ড কীভাবে অভিযান পরিচালনা করে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালায়, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ, জলদস্যুতা দমন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করে—এসব বিষয়ে দর্শনার্থীদের অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ২৪ ঘণ্টা টহল জারি রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।