রাজবাড়ীর দৌলদিয়া ফেরিঘাটে ২৫ মার্চ সংঘটিত মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় যখন বহু যাত্রী নদীগর্ভে প্রাণ হারান, ঠিক সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই জীবন ফিরে পাওয়ার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন ফকিরহাটের সুমা আক্তার হীরা (৩৩)।
জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে স্বামী ও সন্তানসহ রাজবাড়ী থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন হীরা। দৌলদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর গরমের কারণে তার স্বামী ও সন্তান বাস থেকে নেমে বাইরে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি হঠাৎ নদীতে ডুবে যায়, যার ভেতরে আটকা পড়েন হীরা ও আরও অনেক যাত্রী।
চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে উপস্থিত বুদ্ধি ও আত্মসংযম বজায় রেখে হীরা বাসের জানালা ভেঙে বা খুলে কোনোভাবে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে নদীতে ভেসে ওঠার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয় এবং দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হীরার এই জীবনরক্ষাকারী সংগ্রাম স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী তার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
নিজ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে হীরা বলেন, “বাসটি যখন পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটাই চিন্তা ছিল—বাঁচতে হবে।”
আইনগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনার বিবরণ নয়; বরং এটি দুর্যোগ মুহূর্তে ব্যক্তিগত সচেতনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আত্মরক্ষার সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।