ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পার হলেও এখনও জনসাধারণের সামনে উপস্থিত হননি। এর ফলে তাঁর অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। এরপর তিনি রাষ্ট্রীয় বিবৃতির মাধ্যমে নতুন দায়িত্বের খবর দেন, যা ইরানের টেলিভিশনে পড়া হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি পুরোপুরি সুস্থ এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে অনুপস্থিতি স্বাভাবিক। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, “মোজতবা খামেনি অক্ষত আছেন এবং জনসাধারণের সামনে না আসা শুধুমাত্র কৌশলগত সিদ্ধান্ত।”
এর আগে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত এলেক্সাই দেদভ জানিয়েছেন, সুপ্রিম লিডার ইরানে অবস্থান করছেন, তবে জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছেন। নিরাপত্তা ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অদৃশ্যতা একটি অবাঞ্ছিত না হলেও সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোজতবা খামেনির এই জনসমক্ষে অদৃশ্যতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক নজরকেও টানে, যেখানে ইরানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।