রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেছেন, নগরীকে একটি বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। শ্যামা সুন্দরী খাল, কেডি ক্যানেল, ইছামতি, কুকরুল বিল ও চিকলী বিলসহ নগরীর খালগুলো পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করতে পারলে নগরবাসী এবং প্রকৃতিও সুফল পাবে। তিনি দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত খাল সংস্কারে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে নগরীর টাউনহলে অনুষ্ঠিত তিস্তা নদী ও খাল সংরক্ষণ বিষয়ক গ্রীন ভয়েস বিভাগীয় পরিবেশ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রংপুর সিটি দেশের দরিদ্রতম সিটি হওয়ায় উন্নয়নে বরাদ্দ সীমিত, তবুও নগরবাসীর অধিকার সুরক্ষায় তিনি প্রশাসক হিসেবে নয়, সেবক হিসেবে কাজ করতে চান।

প্রশাসক আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের যুবকরা পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাদের সচেতনতা ভবিষ্যতের বাসযোগ্য নগরী নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
গ্রীন ভয়েসের প্রধান সমন্বয়ক আলমগীর কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণের ইতিহাস রয়েছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার মূল শক্তি। পরিবেশ রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে রংপুর বিভাগের পরিবেশ সংকট ও জীবিকায় ঝুঁকি তুলে ধরা হয়। দেশীয় বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনারও আহ্বান জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে “যুবরাই লড়বে সবুজ পৃথিবী গড়বে” শ্লোগান সামনে রেখে দুইদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। এতে রংপুর বিভাগের গ্রীন ভয়েসের ৪০টি ইউনিটের ৫০০’র বেশি প্রতিনিধি, বিভিন্ন সংগঠন, সুধীজন ও গণমাধ্যমসহ প্রায় ৬০০ জন অংশগ্রহণ করেছেন।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় সচেতন করা এবং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করা।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।