ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে অপ্রচলিত এক নাম ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পেশাদার কূটনীতিকের বাইরে গিয়ে বিহারের সদ্য সাবেক রাজ্যপাল ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক আরিফ মোহাম্মদ খানকে এ পদে বিবেচনার ইঙ্গিত মিলেছে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্রাসেলসে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ঢাকায় তার উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।
ভারতের কূটনৈতিক নীতিমালায় রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার পদে শুধুমাত্র ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাট নিয়োগের বাধ্যবাধকতা না থাকায়, বিশেষ কৌশলগত বিবেচনায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে—এমন নজির অতীতে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই আরিফ মোহাম্মদ খানের নাম সামনে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আরিফ খান দীর্ঘদিন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিকবার মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৬ সালের ‘মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদে অধিকার সুরক্ষা) বিল’ ইস্যুতে নীতিগত বিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা ত্যাগের ঘটনা তার রাজনৈতিক জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত থেকে তিনি শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে যোগ দেন এবং সর্বশেষ বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কূটনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এমন উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তা হবে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ, যার কৌশলগত তাৎপর্য আঞ্চলিক রাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।