বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি তহবিলের মাধ্যমে নির্মাণ করা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ৭১টি বীর নিবাস ভবনের অধিকাংশ কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঘরগুলো আনুষ্ঠানিক হস্তান্তরের আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে, গ্রিলে মরিচা ধরছে, টাইলস উঠে যাচ্ছে এবং বিদ্যুৎ-স্যানিটেশনের কাজও অনেক ভবনে অসম্পূর্ণ।
পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী হাওলাদারের ভবনে স্যানিটেশন ও বিদ্যুতের কাজ বাকি থাকলেও বোর্ড খসে পড়ছে, দরজায় ছিটকানি লাগছে না। নজরুল ইসলাম শিকদারের ভবনেরও তিন বছর ধরে ৪০ শতাংশ কাজ অসম্পূর্ণ। বস্তাভর্তি সিমেন্ট গুড়ো করে ব্যবহার করা হয়েছে, পলেস্তরাও ব্যবহার হয়নি।

পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামের ৮৫ বছর বয়সী আবু তালেব খানের ভবনের বিদ্যুৎ ও স্যানিটেশন কাজ অসম্পূর্ণ। সামছুর রহমান শরীফের ভবনেরও পলেস্তরা খসে পড়ছে, বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, তার স্ত্রী অসহায়ভাবে অসম্পূর্ণ ভবনে বসবাস করছেন। আব্দুল মান্নানসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভবনেরও কাজ অসম্পূর্ণ, নতুন ভবনে ওঠার আগেই পলেস্তরা খসে পড়ছে।

মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদাররা বারবার কাজ স্থগিত রাখছে, ফোন ধরছে না এবং বর্ষার আগে কাজ শেষ করা হচ্ছে না। প্রাপ্ত সুবিধাভোগী মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করছেন, সরকারিভাবে প্রদত্ত বীর নিবাসে পরিবারসহ নিরাপদভাবে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা হোক।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বাবুল বলেন, অনেক ভবনের কাজ কম মানের ও অসম্পূর্ণ। তিনি বর্ষার আগেই সকল অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, মাঝপথে কাজ থেমে যাওয়ায় ঠিকাদারদের তাগিদ দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। বীর নিবাস প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহও জানিয়েছেন, যথাসম্ভব দ্রুত বাকী কাজ সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।