দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও অংশগ্রহণ সংকটের পর অবশেষে রাজধানীর ক্লাব ক্রিকেট কাঠামো পুনরুজ্জীবনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব গ্রহণের পরই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অধীনে ক্লাবগুলোর একাংশের অনাগ্রহ ও মতবিরোধের কারণে ডিপিএল আয়োজন স্থগিত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আংশিকভাবে অনুষ্ঠিত হলেও সব ক্লাবের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি, ফলে সার্বিকভাবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিসিবির অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান তামিম ইকবালের উদ্যোগে ১২টি ক্লাবের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে মে মাসের শুরুতে সুপার লিগ পর্ব ছাড়া ডিপিএল আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী বোর্ডের নেওয়া কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
বিশেষত, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগে অংশগ্রহণ না করা ক্লাবগুলোকে অবনমনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা আইনগত ও ক্রীড়া ন্যায্যতার প্রশ্ন বিবেচনায় বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে লিগ কাঠামো পুনর্বিন্যাস নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে, প্রমোশন ও রেলিগেশন ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাবে কিছু ক্লাব আপত্তি জানিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে সমাধান হিসেবে ভবিষ্যৎ মৌসুমে ক্লাব সংখ্যা বাড়ানোর বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে, দ্বিতীয় বিভাগে অংশ না নেওয়া ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়দের সুযোগ দিতে পৃথক টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অংশগ্রহণমূলক ন্যায্যতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিসিবির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে লিগ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ম্যাচ সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। একদিনেই এক রাউন্ডের সব ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা পূর্ববর্তী কাঠামো থেকে ভিন্ন।
সার্বিকভাবে, বর্তমান উদ্যোগগুলোকে ক্লাব ক্রিকেটে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব নিশ্চিতের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা-এর মৃত্যুকে ঘিরে বহুল আলোচিত বিচার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হয়েছে, প্রায় এক বছর পর নতুন করে শুনানি কার্যক্রম চালু হলো। ২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন ম্যারাডোনা। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর গৃহপর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে তার সাত সদস্যের মেডিক্যাল টিমের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে বিচার প্রক্রিয়া এক বিচারকের নৈতিক স্খলনসংক্রান্ত বিতর্কে বাতিল হয়ে যায়। অভিযোগ ছিল, বিচারক একটি ডকুমেন্টারিতে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেছেন—যার পর তাকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হয়। নতুন করে শুরু হওয়া এই মামলায় এবার অন্তত ১২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে। চিকিৎসক, নার্স ও মনোচিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত সূত্র। ম্যারাডোনার পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে ছাড়ার পর পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও নজরদারির অভাবেই তার মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়। আদালত এখন সেই অভিযোগেরই আইনগত নিষ্পত্তির পথে এগোচ্ছে।
চোটের কারণে পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) থেকে ছিটকে গেছেন বাংলাদেশি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। টুর্নামেন্টে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলা এই ব্যাটার কাঁধের লিগামেন্ট ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঝপথেই মাঠের বাইরে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দলীয় সূত্র ও খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠদের বরাতে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল মুলতান সুলতান্সের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে আসিফ আলীর সঙ্গে সংঘর্ষে কাঁধে গুরুতর আঘাত পান ইমন। পরবর্তীতে করা এমআরআই স্ক্যানে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, যার ফলে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। চোটে হতাশ পারভেজ ইমন নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, পিএসএলের মতো বড় মঞ্চে খেলতে না পারায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত। তবে অভিজ্ঞতা ও দলীয় পরিবেশকে তিনি স্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন এবং লাহোর কালান্দার্সের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রথমবারের মতো পিএসএলে অংশ নেওয়া এই ডানহাতি ওপেনার তিনটি ম্যাচে লাহোরের প্রতিনিধিত্ব করেন। মাত্র ১৬১.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৭১ রান করে ইতোমধ্যে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন তিনি। তৃতীয় ম্যাচে তার ১৯ বলে ৪৫ রানের বিস্ফোরক ইনিংস ক্রিকেট মহলে দৃষ্টি কাড়ে। চোটের কারণে মৌসুম শেষ হলেও দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও মাঠে ফেরার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ বাংলাদেশি ব্যাটার।
সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ বাংলাদেশের ক্রিকেট পরিবেশকে ‘সার্কাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতভর ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের চলমান কর্মকাণ্ড ও মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রচারণায় আসল খেলার গুরুত্ব হারাচ্ছে। যদি টিকিট কিনে আসেন, খেলা দেখার আসল সুযোগটাই পাবেন না।” আফতাব আরও উল্লেখ করেছেন, “আমেরিকায় তিন বছর থাকতে গিয়ে বোর্ডের অবস্থান ও কার্যক্রম বুঝতে পারিনি। এখানে খেলায় নয়, পুরো সার্কাসটাই আলোচ্য। মিডিয়া এমনভাবে খবর পরিবেশন করছে যে, জানতে চাইলেও খবরের বাইরে থাকা সম্ভব নয়।” গত দেড় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে তিনজন সভাপতি পরিবর্তিত হয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদের পর তার কাউন্সিলরশীপ বাতিল হয়। এরপর টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দফায় নির্বাচিত হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ঘরোয়া লিগ আয়োজন ও শীর্ষ ক্লাবগুলোর বয়কটের কারণে কমিটি কার্যক্রমে ব্যর্থ হয়। তদন্ত শেষে বুলবুলের কমিটি ভেঙে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ নতুন ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যা তামিম ইকবালের নেতৃত্বে সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই পুনর্গঠনেও আফতাবের মতো অনেকেই উদ্বিগ্ন, কারণ খেলার পরিবর্তে কেবল প্রশাসনিক অস্থিরতা ও নাটকীয়তা চলছেই।