নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর সতর্কতা সত্ত্বেও অবৈধ বালু পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত ওজনের বালুবাহী ড্রামট্রাকের চাপেই একটি সেতু ভেঙে পড়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সিকদার রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী বালু সিন্ডিকেট প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শত শত ট্রাক দিয়ে বালু পরিবহন করছে। অতিরিক্ত ভারে সড়ক ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
এর আগে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
এদিকে বালু পরিবহনের কারণে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক কর্দমাক্ত ও চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, উড়ন্ত বালুর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
মুছাপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো. তানিম রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে সড়ক সচল করার কাজ চলছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং অবৈধ বালু পরিবহন ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবিলম্বে বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।