রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়ে অভিযোগকে কেন্দ্র করে সেনাসদস্য ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর এক সেনাসদস্য ও তার ভাইকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুললে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় আহত হন সেনাবাহিনীর ল্যান্স কর্পোরাল সোহেল আলী (২৯) এবং তার ভাই জয় আলী। পরিবার অভিযোগ করেছে, মায়ের মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে ভিডিও ধারণের সময় তাদের মারধর করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রোগীর স্বজনরা চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেন। মামলার ভিত্তিতে জয় আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং সেনাসদস্য সোহেল আলীকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে তদন্ত চলছে।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন দাবি করেছে, তারা ধারাবাহিকভাবে ‘মব হামলা’র শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে এবং হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
চিকিৎসকরা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে, যা চিকিৎসা পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তারা দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে সেনাসদস্যের পরিবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।