ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর মির্জাপুর জেলায় একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় সড়ক-১৩৫ এর ড্রামন্ডগঞ্জ উপত্যকার ঢালু পথে ব্রেক বিকল হওয়া একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হলেও স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত ব্রেক বিকল হয়ে এই চেইন-কলিশনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী ড্রামন্ডগঞ্জ উপত্যকার উক্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত, যেখানে পূর্বেও একাধিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।