ভোজ্যতেল সরবরাহ সংকটে রাজধানীর বাজারে ভোক্তাদের চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে একাধিক বাজার ঘুরেও চাহিদামতো পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা। একইসঙ্গে বিকল্প হিসেবে খোলা তেল কিনতেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি দাম, যা ভোক্তা অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর, মালিবাগ ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে খুচরা বিক্রেতারা চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে গিয়ে একাধিক দোকান ঘুরেও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সীমিত সরবরাহ থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই খোলা তেলের দিকে ঝুঁকছেন, যেখানে প্রতি লিটার প্রায় ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম পণ্য দিচ্ছে। বিশেষ করে পাঁচ লিটারের বোতল প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে অক্ষম হয়ে পড়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই ক্রেতা হারাচ্ছেন।
সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতার কারণে দেশীয় পর্যায়ে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, পাইকারি ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক নেই, যার প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পড়ছে। এতে খোলা ও বোতলজাত উভয় তেলের দামেই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট টাস্কফোর্সের বৈঠকের পর জানানো হয়, নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বড় ধরনের সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে বাজারে অনিয়ম বা কারসাজির প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।