রংপুর জেলার অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিলস লিমিটেড ২০২০ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। টানা লোকসান, আধুনিকায়নের অভাব এবং আখ সরবরাহ সংকটের কারণে মিলটির কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও পুনরায় চালুর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
মিল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কারখানার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে এবং অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। তবুও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে গঠিত টাস্কফোর্স বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় চালুর সুপারিশ করে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৭-২৮ মৌসুমে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল পুনরায় আখ মাড়াই শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, শর্তসাপেক্ষে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দে অসম্মতি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই লোকসানি এবং অতীতে বিপুল ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় শ্রমিক ও আখচাষিদের অভিযোগ, পরিকল্পিত অবহেলার কারণে মিলটি লোকসানি অবস্থায় গেছে। তাদের দাবি, আধুনিকায়ন করলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় লাভজনক করা সম্ভব।
চিনিকল অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাবেক নেতা আবু সুফিয়ান বলেন, মিল বন্ধ হওয়ার পর হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষি জীবিকার সংকটে পড়েছেন। তিনি দ্রুত বাজেটে পুনরায় চালুর জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।
১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৬৭ সালে উৎপাদন শুরু করা এই চিনিকল একসময় উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তবে ২০০০ সালের পর থেকে ধারাবাহিক লোকসানে পড়ে ২০২০-২১ মৌসুমে এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।