ইরান ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই সীমিত পরিসরের শক্তিশালী সামরিক বিকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ নয়, বরং স্বল্পমেয়াদি কিন্তু লক্ষ্যভিত্তিক হামলার’ একটি পরিকল্পনা পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পরিকল্পনার নকশা তৈরি করেন। এতে ইরানের তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি, কমান্ড সেন্টার এবং আঞ্চলিক মিলিশিয়া নেটওয়ার্ককে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাতে দ্রুত কৌশলগত ক্ষতি সাধন করা যায়।
তবে এখনো পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ প্রস্তাবে অনুমোদন দেননি। তিনি বরং ইরানের ওপর নৌ-চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধ অব্যাহত রাখার কৌশলকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
অন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির কিছু অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়নে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা রয়েছে।
এক্সিওস ও বিবিসির তথ্যমতে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া আংশিক শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পরই এই সামরিক বিকল্পগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় আনা হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ঈগল’ মোতায়েনের প্রস্তাবও দিয়েছে সেন্টকম, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও গভীর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প এখনো উন্মুক্ত রেখেছে ওয়াশিংটন।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।