নীলফামারীতে টানা আগাম বৃষ্টিপাত ও বৈশাখী ঝড়ে হেলে পড়া ভুট্টা, নিচু এলাকার বোরো ধান, পাট ও সবজি পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বিশেষ করে পরিপক্ক ভুট্টা ও পানিতে তলিয়ে থাকা বোরো ধান দ্রুত ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ডিমলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুস সবুর জানান, শনিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা মাঝারি ধরনের বৃষ্টি। আগামী ৫ মে পর্যন্ত এ ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
কৃষকদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের বৈশাখী ঝড়ে ভুট্টা ক্ষেত ব্যাপকভাবে হেলে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে সময়মতো ফসল সংগ্রহ করা যাচ্ছে না, ফলে ভুট্টা পচে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ভুট্টা চাষি লুৎফর রহমান বলেন, “মাত্র দুই দিন সূর্যের আলো পেলে ফসল তুলতে পারতাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে ভুট্টা সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
এদিকে জেলার বিভিন্ন মরা নদী—বুড়ি তিস্তা, ধুম, বামনডাঙ্গা, দেওনাই, খড়খড়িয়া ও ধাইজান নদীতে আগাম বোরো ধান চাষ করলেও বৃষ্টির কারণে পানি বেড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। নিচু জমির আধাপাকা বোরো ধানও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, ভারতের মেঘালয় ও স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে, তবে তা এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১.৪১ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচে।
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর রহমান বলেন, জেলায় গড়ে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জে বৃষ্টির মাত্রা বেশি। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে বোরো ১২ হেক্টর, ভুট্টা ১৭ হেক্টর, পাট ৫ হেক্টর ও সবজি ১০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি না হলে ভুট্টার বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।