কলকাতায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সঙ্গীত মেলা ও তৃতীয় ‘প্রজ্ঞা আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। রোববার (৪ জানুয়ারি) তাপসকুমার পাল একাডেমি অব মিউজিক অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে নগরীর উত্তমমঞ্চে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়।
পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—এই দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানে দেশ ও বিদেশের পাঁচজন বিশিষ্ট শিল্পী ও সংস্কৃতিসাধককে তাঁদের আজীবন সাধনা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘আন্তর্জাতিক প্রজ্ঞা পুরস্কার–২০২৫’ প্রদান করা হয়। এবারের পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীলঙ্কার কলম্বো ভিজ্যুয়াল অ্যান্ড পারফর্মিং আর্টস বিভাগের প্রখ্যাত বেহালাবাদক অধ্যাপক (ড.) রুউইন রঙিত ডায়াস, প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী বিদুষী বিভা সেনগুপ্ত, মণিপুরী নৃত্যের কিংবদন্তি গুরু অধ্যাপক কলাবতী দেবী, খ্যাতিমান পাখোয়াজগুরু অধ্যাপক পণ্ডিত চঞ্চল ভট্টাচার্য এবং এসরাজ ও হারমোনিয়াম বাদক অধ্যাপক পণ্ডিত দেবপ্রসাদ দে।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ভায়োলিন অর্কেস্ট্রায় রবীন্দ্রসংগীত ‘আলো আমার আলো’ এবং গৌড়ীয় নৃত্যে গুরুবন্দনার মাধ্যমে। পরবর্তীতে অতিথিদের উপস্থিতিতে প্রদীপ প্রজ্বালন, সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ সময় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রসংগীত, মণিপুরী নৃত্য ও শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনায় এক অনন্য সাংস্কৃতিক আবহ সৃষ্টি হয়। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল ৯৩ বছর বয়সী বিদুষী বিভা সেনগুপ্তের পরিবেশনা, যা দর্শক-শ্রোতাদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে একাডেমির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় বিশেষ অর্কেস্ট্রা ‘গ্লোবাল অর্কেস্ট্রা: বাংলার যোগ’, যা অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট বেহালাশিল্পী তাপসকুমার পাল।

আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিসরে সংগীত ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এই আয়োজন বিশ্ব সংস্কৃতি অঙ্গনে বাংলাদেশের সঙ্গে উপমহাদেশের সৃজনশীল ঐতিহ্যকে আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।