কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের সুপেয় পানি প্রাপ্তি সহজ হবে এবং মাঠের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঈদগাহ মাঠের মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে একটি মাটির ড্রেন রয়েছে। ঈদের সময় অস্থায়ীভাবে সুপেয় পানির ট্যাপ বসানো হলে আশপাশের এলাকায় পানি জমে কর্দমাক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা মুসল্লিদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সমস্যা নিরসনে তৎকালীন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঈদগাহ মাঠ কমিটির সদস্য সচিব মো. এরশাদ মিয়ার উদ্যোগে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাসহ আরসিসি ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন দেয় জেলা পরিষদ। প্রকল্প অনুযায়ী মাঠের মাঝখান দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ওপর স্ল্যাব থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হবে।
এদিকে নির্মাণকাজ শুরুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঠের মাঝখানে ওজুখানা নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন, “শোলাকিয়া ঈদগাহে মাঠের মাঝখানে কোনো ওজুখানা নির্মাণ করা হচ্ছে না। এটি শুধুমাত্র পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন। ঈদের দিন মুসল্লিদের সুবিধার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থাও থাকবে।”
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।