বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কার্ড দেখিয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করে ভোট চাইছেন, যা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন—এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও পঞ্চগড়-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রতীক বরাদ্দ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, খালেদা জিয়ার শোকবার্তার নামে বিএনপি যে লিফলেট বিতরণ করেছে, তা ভোটারদের সহানুভূতি আদায় ও ভোট চাওয়ার কৌশল। তিনি বলেন, কড়াইল বস্তির এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান একটি তথাকথিত কার্ড দেখিয়ে সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা স্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন। সরকার গঠনের নিশ্চয়তা না থাকলেও এভাবে প্রলুব্ধ করা আইনসঙ্গত নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভোটার ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ ধরনের ভয়ভিত্তিক রাজনীতি বাংলাদেশে আর চলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, এখন পর্যন্ত মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। ভোটার, কর্মী ও সমর্থকদের ভয় দেখানো হলে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, এনসিপি ও ১০ দলীয় জোট সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। কোনো দল যদি দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।