২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর এই প্রথম ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একই আলোচনার কাঠামোয় বৈঠকে বসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এ ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও, শান্তি চুক্তির মূল বিরোধগুলোতে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় মধ্যস্থতা এবং চাপের মধ্যেই এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় ব্যর্থ হলে উভয় পক্ষই ‘অযৌক্তিক আচরণ’ করবে। তবে বৈঠকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন বন্ধের প্রশ্নে কোনো ঐকমত্য হয়নি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনাকে শান্তির পথে একটি ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও একে ইতিবাচক অগ্রগতি বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ বিষয়ে সমঝোতা হলেও বাকি ১০ শতাংশ—বিশেষ করে দনবাস অঞ্চলের ভূখণ্ড প্রশ্ন—এখনও সবচেয়ে বড় বাধা।
অন্যদিকে রাশিয়া স্পষ্ট করেছে, দনবাস অঞ্চল ছাড়ার প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দেবে না। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, ভূমি-সংক্রান্ত দাবি মেনে নেওয়া না হলে যুদ্ধক্ষেত্রেই লক্ষ্য অর্জন করবে মস্কো। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ ও দেশটিতে ন্যাটো বাহিনীর উপস্থিতির বিরোধিতাও পুনর্ব্যক্ত করেছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার আশ্বাস দিলেও এর বাস্তব কাঠামো ও আইনি ভিত্তি এখনও প্রকাশ পায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ও আগের সিদ্ধান্তগুলোর কারণে এই নিশ্চয়তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এদিকে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামোতে রুশ হামলা তীব্রতর হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ আখ্যা দিয়ে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা ইস্যুতে অনড় অবস্থানের কারণে ইউক্রেন সংকটের সমাধান এখনও অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।