আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা গ্রাম-মহল্লায় ছুটছেন, ভোটারদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ভোটের আশ্বাস চাইছেন।
প্রার্থীদের ঘোষণায় গুরুত্ব পাচ্ছে নদীভাঙন রোধ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মাদক-সন্ত্রাস দমন। তবে বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে আশার পাশাপাশি সংশয়ও রয়েছে।
হিজলার ভোটার হাবিউল্লাহ বলেন, “নদীভাঙন আমাদের বড় সমস্যা। ভোটের আগে সবাই ওয়াদা করে, পরে আর খোঁজ থাকে না।” বাকেরগঞ্জের সোহেল সন্যামতও যোগাযোগ ও নদীভাঙন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বরিশাল নগরীর ভোটার গোলাম সারোয়ারের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মাদকমুক্ত নগরী এখন সবচেয়ে জরুরি।
আসনভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়—
বরিশাল-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।
বরিশাল-২ এ ধানের শীষের প্রার্থী প্রত্যন্ত এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বরিশাল-৩ এ নদীভাঙন রোধ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ইস্যুতে প্রধান প্রার্থীরা মাঠে সরব।
বরিশাল-৪ এ চরাঞ্চলকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বরিশাল-৫ (সদর) হাইপ্রোফাইল আসনে একাধিক দলের প্রার্থী জোর প্রচারে ব্যস্ত।
বরিশাল-৬ এ গ্রামগঞ্জে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা।
ভোটারদের একটাই প্রত্যাশা—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন পোস্টার ও বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ভোটের পর বাস্তবে রূপ নেয়। বরিশালের ছয় আসনে তাই এখন প্রতিশ্রুতি, জনপ্রিয়তা ও বিশ্বাসযোগ্যতার লড়াইই নির্ধারণ করবে ফলাফল।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।