জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা ১৯৭১ অস্বীকার করা হবে—এ ধরনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অজ্ঞতাপ্রসূত। যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তারা নতুন করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চায়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পঞ্চগড়-১ আসনের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রচারণা ও উঠান বৈঠককালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি টানা ষষ্ঠ দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
সারজিস আলম বলেন, দেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। জনগণ সংস্কার ও পরিবর্তন চেয়েছে বলেই এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। সেই সংস্কারের বাস্তবায়ন সম্ভব হবে জুলাই সনদ কার্যকর করার মাধ্যমে, আর তার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোট বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তারা কার্যত ফ্যাসিবাদী শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করছে। তবে জনগণ আর কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেবে না।
সারজিস আলম দাবি করেন, রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে এবং ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
এ সময় জোটের নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক, এনসিপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে যেকোনো সময় অনুমোদন হতে পারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় কমিটি। দলীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমান চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই সাবেক ছাত্রনেতাকে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে যুবদলকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেই নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
বিদেশে চিকিৎসাধীন বিএনপির শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন পারিবারিক সূত্র। মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার-এ চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় চিকিৎসকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস জানিয়েছেন, তিনি এখন স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন ঈদুল আজহা-র আগেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চে রাজধানীতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) বিকেলে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে মিছিলটি বের হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট, তুফান মোড়, বড়বাজার ও থানা মসজিদ এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা ১১ দলের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এ সময় জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, নায়েবে আমির শেখ নূরুল হুদা, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, মাওলানা ওসমান গণি, শহর শিবির সভাপতি মেহেদি হোসেনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।