শিক্ষা

কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়লেও চাকরি নিশ্চিত নয়

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫

দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গত এক দশকে। ফলস্বরূপ, জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিয়ে পাশ করার পরও একটি বড় অংশের শিক্ষার্থী কাজ পাচ্ছে না নিয়মিতভাবে। বেকারত্ব, দক্ষতা ঘাটতি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগের অভাবকে এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ভর্তির হার বাড়ছে, বিশেষত গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে

কারিগরি শিক্ষাকে জনপ্রিয় করতে সরকারের পক্ষ থেকে এসএসসি পাসের পর ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স, স্বল্পমেয়াদি ট্রেনিং, আর্থিক প্রণোদনা ও বিনা মূল্যে ভর্তি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে যেখানে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির হার ছিল মাত্র ১.৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশে।

ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক জানান,

“আগে অভিভাবকরা ছেলেমেয়েকে কারিগরি শিক্ষায় দিতে চাইতেন না। এখন অনেকেই বুঝছেন যে শুধু সাধারণ পড়াশোনায় চাকরি পাওয়া কঠিন।”

 

ডিপ্লোমা শেষ করেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত চাকরি

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও অধিকাংশই যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও তারা কম মজুরির সাধারণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন অথবা প্রাসঙ্গিক কোনো কর্মসংস্থান না পেয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।

দিনাজপুরের একটি সরকারি পলিটেকনিক থেকে পাশ করা শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম বলেন,

“আমরা যেসব টেকনিক্যাল বিষয় শিখি, বাস্তবে সেগুলোর চাহিদা কম। আবার ইন্ডাস্ট্রি কী চাইছে, সেটাও আমাদের জানানো হয় না। ফলে সনদ থাকলেও চাকরি হয় না।”

 

শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া লিংকেজ না থাকা। অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো পুরনো সিলেবাসে পাঠদান চলছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের প্রায় ৪৮ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অতিরিক্ত ডিগ্রি নিয়েও বেকার থাকছেন ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত।

বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদা মেলাতে না পারায় কারিগরি শিক্ষা কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না।

 

সরকারি প্রকল্প থাকলেও ফল পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা

সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রকল্প যেমন—Skills for Employment Investment Program (SEIP) ও National Skills Development Policy বাস্তবায়ন করা হলেও এগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ সংযোগ কম।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,

“আমরা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে, কিন্তু বড় পরিসরে বাস্তব ফল এখনো আসেনি।”

বেসরকারি পলিটেকনিকগুলোর অব্যবস্থাপনা ও মানহীন প্রশিক্ষণকেও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

 

দক্ষতা যাচাই ও কর্মসংস্থানের মাঝে দরকার সেতুবন্ধন

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার অভিযোগ করছে, প্রার্থীদের সার্টিফিকেট থাকলেও হাতে-কলমে দক্ষতা কম। দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মূল্যায়ন ও ইন্টার্নশিপ প্রক্রিয়া চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন,

“শুধু সনদ না, দক্ষতা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এখন প্রতিটি কোর্সে ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারশিপ চালু করার উদ্যোগ নিচ্ছি।”

শিক্ষা

আরও দেখুন
এসএসসি পরীক্ষায় কার্যকর হচ্ছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বিধান কার্যকর করা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা আচরণগত অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিলের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বরত পরিদর্শক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার ফলাফল আইনগতভাবে অকার্যকর গণ্য হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0

অটোপাশের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির উপর হামলা

শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য ১০ শনিবার ক্লাস খোলা

লটারির পদ্ধতি বাতিল, স্কুল ভর্তি হবে পরীক্ষা নির্ভর: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাবির নতুন ভিসি ওবায়দুল ইসলাম ও ইউজিসির চেয়ারম্যান হচ্ছেন মামুন আহমেদ

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাবির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির নেতৃত্বে এই নতুন পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন আম্মার

ঢাবি নিয়ে আম্মারের বিতর্কিত মন্তব্য

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সব পরীক্ষার্থী ‘মেয়ে’!

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীতের ঘোষণা

বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা জারি

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবার ছাড়া বছরে মোট ৬৭ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন উপলক্ষে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে অর্ধবার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী, নির্বাচনী ও বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সীমা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও তারিখ পরিবর্তনে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে পাঠদান স্থগিত বা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0

শিক্ষার্থীদের থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় নিষিদ্ধ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম ভিসি হলেন ড. এ এস মো. আবদুল হাছিব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এআই অ্যাপ ব্যবহার, শিক্ষার্থী আটক

0 Comments