রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামায় সম্পদের হিসাবে স্পষ্ট বৈষম্য দেখা গেছে। অধিকাংশ বিএনপি প্রার্থী কোটিপতি হলেও জামায়াতের বেশিরভাগ প্রার্থী লাখপতির তালিকায় রয়েছেন।
হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজশাহী-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. শরীফ উদ্দিনের বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা এবং সম্পদ ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। একই আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমানের আয় ৬ লাখ টাকা ও সম্পদ ৩৬ লাখ টাকা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানুল ইসলাম (তারেক) এ আসনের সবচেয়ে ধনী, যার সম্পদ ৫ কোটি টাকার বেশি।
রাজশাহী-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের সম্পদ প্রায় ৯৭ লাখ টাকা হলেও তার স্ত্রী কোটিপতি। জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সম্পদ ২ কোটি টাকার বেশি।
রাজশাহী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলনের সম্পদ দেড় কোটি টাকার কাছাকাছি, অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদের সম্পদ ৪২ লাখ টাকা।
রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির ডিএমডি জিয়াউর রহমানের সম্পদ ৯১ লাখ টাকা হলেও জামায়াত প্রার্থী মো. আব্দুল বারী সরদার কোটিপতি, যার সম্পদ প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
রাজশাহী-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সম্পদ এক কোটির বেশি হলেও জামায়াত প্রার্থী মনজুর রহমানের সম্পদ ৫৫ লাখ টাকার কিছু বেশি।
রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির মো. আবু সাইদ চাঁদ ও জামায়াতের মো. নাজমুল হক—উভয়েই লাখপতি প্রার্থী।
সামগ্রিকভাবে হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, রাজশাহীতে বিএনপি প্রার্থীদের সম্পদ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, আর জামায়াত প্রার্থীদের বড় অংশ মধ্যবিত্ত পর্যায়ের।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।