যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সদ্য উন্মুক্ত হওয়া তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ করে কিছু দাবি করা হলেও ভারত সরকার তা কঠোর ভাষায় নাকচ করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকাশিত নথির অংশ হিসেবে একটি ই–মেইলের সূত্র ধরে দাবি করা হয়েছে—২০১৭ সালে ইসরায়েল সফরের প্রস্তুতি নিয়ে মোদি নাকি যুক্তরাষ্ট্রে যৌন অপরাধে দণ্ডিত ও বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন। ওই ই–মেইলে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যেই এ সফর করা হয়েছিল।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগকে “ভিত্তিহীন, রুচিহীন ও একজন দণ্ডিত অপরাধীর কল্পনাপ্রসূত বক্তব্য” হিসেবে আখ্যা দিয়ে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের ঘটনা ছাড়া বাকি সব দাবি অবিশ্বাস্য ও গুরুত্বহীন।
এ বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করেন, যা ছিল ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি ইসরায়েল সফর। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্দেশে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি প্রকাশ করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।