মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের গতিবিধি ও অবস্থান শনাক্তে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা চেয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, বিপুলসংখ্যক মার্কিন সেনাসদস্য বর্তমানে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল ও ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান করছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অভিযোগ করেছে, নিজস্ব সামরিক স্বার্থ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় আরব নাগরিকদের ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে এসব অবস্থান শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় সাধারণ জনগণকে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব স্থানে তারা অবস্থান করতে পারে, সেসব এলাকার নিকটবর্তী স্থান থেকে দূরে থাকার জন্যও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।
আইআরজিসি মার্কিন সেনাদের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকে ‘ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এজন্য নির্দিষ্ট একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নির্ধারণে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
ক্যামেরুন সফরে বৈশ্বিক যুদ্ধনীতি ও ক্ষমতাধর নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অল্প কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংঘাতকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার পরপরই। পোপ লিও বলেন, যুদ্ধবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমন আচরণ করছে যেন তারা ধ্বংসের পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ, অথচ ধ্বংস করতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট হলেও পুনর্গঠনে লাগে পুরো জীবন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে হাজারো প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল অর্থ যুদ্ধ ও ধ্বংসে ব্যয় হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের মতো মানবিক খাতে অর্থ বরাদ্দে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতাকে আরও গভীর করছে। পোপ লিও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই ‘দৃঢ় ও নৈতিক পরিবর্তনের পথ’ গ্রহণ করা জরুরি।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য— ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণায় জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) সরাসরি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, গত প্রায় ৩৪ বছর ধরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল , সেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক স্থবিরতা অবসানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে এবং এই সংলাপকে পরিস্থিতি উন্নয়নের একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং নির্ভরযোগ্য অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত চলবে। নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে শ্রমঘাটতি পূরণ, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে মাদ্রিদ। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার উল্লেখ করেছে। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত নীতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।