বাগেরহাটের মোংলার যে বিয়ে বাড়িতে এখন ছিল হইহুল্লোড় আর আনন্দ উৎসবের ভাগাভাগির প্রস্তুতি, সেখানে আজ কারো জন্য কান্নার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে আব্দুর রাজ্জাক সহ তার পরিবারের ৮ সদস্যের প্রাণ। বাড়ির উঠান এখন লাশে ভর্তি, সারি সারি খাটিয়ায় শুয়ে আছে ৯ জনের নিথর দেহ। তাদের দাফনের অপেক্ষায় সবাই। যেখানে প্রস্তুতির কথা ছিল বধূবরণের, সেখানে নিষ্ঠুর নিয়তি বদলে দিয়েছে দাফন কাফনের মতো পরিস্থিতিতে। এখন সেই বাড়িতে শুধুই শোকের মাতম।
বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। একই রকমের শোক চলছে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের রামপালের বাড়িতে।
আলোচিত হৃদয়বিদারক এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাগেরহাট ৩ আসনের সংসদ সদস্য বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। সকালে তিনি নিহত মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখের বাড়িতে গিয়ে জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া জুমার নামাযের পর মোংলার শেলাবুনিয়ায় নিহতদের জানাজাতে তিনি অংশ নেবেন।
গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরে গভীর রাতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে মোংলায়, ৪ জনের কয়রায় এবং মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ নেওয়া হয়েছে রামপালে।
এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান সাব্বির, কনে মারজিয়া আক্তার মিতু, কনের বোন লামিয়া, নানি আনোয়ারা বেগম, দাদি রাশিদা বেগম, বরের বাবা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, আঞ্জুমান, পুতুল, ঐশী, শিশু ইরাম, সামিউল ও আলিফ এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখসহ উভয় পরিবারের বেশ কয়েকজন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ভয়াবহ সেই সংঘর্ষে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় বহু মানুষের জীবন, থেমে যায় বহু স্বপ্নের গল্প।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ জানান, “এই মৃত্যুর ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
যে বাড়িতে আজ উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। হাসি-আনন্দের সেই উঠান আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক নির্মম নিয়তির।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।