অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় একটি রুশ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সকল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার (১ এপ্রিল) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বরাতে রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানায়, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালে এএন-২৬ মডেলের বিমানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল শনাক্ত করে এবং বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয় যে, বিমানে থাকা ৬ জন ক্রুসহ মোট ২৯ আরোহীর কেউই বেঁচে নেই।
প্রাথমিক তদন্তে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কারিগরি ত্রুটিকে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিমানে কোনো ধরনের বাহ্যিক আঘাতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি—ফলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা পাখির সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনাটি ক্রিমিয়ার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে ঘটেছে, যা উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তোলে। আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত এই অঞ্চলটি ২০১৪ সালে রাশিয়া কর্তৃক দখল করা হয়, যা এখনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আনুষ্ঠানিক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জানানো হয়েছে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।