মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কৌশলগত সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নৌ-শক্তি মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এ প্রেক্ষিতে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’কে সম্ভাব্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে রণতরিটির যাত্রা শুরু হয়। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে এর চূড়ান্ত অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এটি ইরান উপকূল সংলগ্ন এলাকায় মোতায়েন মার্কিন নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
রণতরিটি বন্দর ত্যাগের সময় নাবিকদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার ছাপ লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত এ ধরনের মোতায়েন ছয় মাসের জন্য নির্ধারিত হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা দীর্ঘায়িত হয়ে আট মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
ডেপুটি ফ্লিট ফোর্সেস কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জন গাম্বলটন নাবিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তায় বলেন, বর্তমান মোতায়েনের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-১০-এর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল অ্যালেক্সিস ওয়াকার ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো স্থানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।
এ অভিযানে ‘বুশ’ রণতরির সঙ্গে অত্যাধুনিক স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং একাধিক যুদ্ধজাহাজ যুক্ত রয়েছে, যা সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে। পেন্টাগন এ মোতায়েনকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার লক্ষ্য চলমান সামরিক কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা প্রদান।
উল্লেখ্য, একই অঞ্চলে অবস্থানরত আরেক মার্কিন রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন অবস্থায় রয়েছে এবং এর অবস্থানকাল ইতিহাসের দীর্ঘতমগুলোর একটি হতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে এবং সামগ্রিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তামিল চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের প্রদর্শনী নীতিতে বড় পরিবর্তন আনলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়। দক্ষিণি অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণন অভিনীত নতুন সিনেমা ‘কারুপ্পু ’ মুক্তিকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনীর সময়সূচিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এতদিন রাজ্যে ভোর বা সকালের বিশেষ শো প্রদর্শনের অনুমতি না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিনেমাটির প্রথম শো সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই বিজয়ের অন্যতম আলোচিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ভক্ত ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিকে তামিল সিনেমার প্রদর্শনী সংস্কৃতিতে নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন। এদিকে বিজয় ও তৃষাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের গুঞ্জনও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভক্তদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ শিক্ষা দিতে” সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় সতর্ক করে বলেন, ভুল কৌশল ও সিদ্ধান্তের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না—এ বাস্তবতা বিশ্ব ইতোমধ্যেই উপলব্ধি করেছে। এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং তেহরানের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়াকে তিনি “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন। এর আগে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের জবাব প্রত্যাখ্যান করে কঠোর অবস্থান নিলে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে ওয়াশিংটনে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক শান্তির জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। সোমবার (১১ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া অবস্থান জানিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের মূল উৎস যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শর্তসমূহ বাস্তবতা বিবর্জিত, অন্যদিকে ইরানের উত্থাপিত দাবি ন্যায্য ও যুক্তিসংগত। তার মতে, যুদ্ধবিরতি, নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, সম্পদ মুক্তকরণ এবং জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ঘোষণা করেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।