নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বিশ্বের প্রথম ফাইলেরিয়া হাসপাতালটি এখন অবহেলা ও অযত্নে পড়ে রয়েছে। একসময় আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সম্পূর্ণ বন্ধ এবং প্রশাসনিকভাবে সিলগালা অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ধলাগাছ এলাকায় অবস্থিত হাসপাতালটিতে নীরবতা বিরাজ করছে। নেই কোনো চিকিৎসক, রোগী বা সেবাকর্মীর উপস্থিতি। ভবনের ভেতরে পড়ে আছে দামী আসবাবপত্র, আর অবকাঠামো ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে—পরিত্যক্ত পরিবেশে যেন এক ভুতুড়ে আবহ তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০০২ সালে জাপান সরকারের অর্থায়নে এবং আইএসিআইবি (IACIB)-এর উদ্যোগে এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলেরিয়া (গোদ রোগ) চিকিৎসা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে প্রতিষ্ঠানটি। দেশ-বিদেশের বহু রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসতেন।

তবে পরিচালনা কমিটির দ্বন্দ্ব, আর্থিক সংকট এবং অনুমোদনহীন কার্যক্রমের অভিযোগে ২০২৩ সালের মে মাসে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নানা অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১২ জুন স্থানীয় প্রশাসন হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়।
বর্তমানে হাসপাতালটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করা হোক, যাতে ফাইলেরিয়া রোগ প্রতিরোধে আবারও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাগেরহাটের শরণখোলা এলাকার শেলারচরের সিঙেরটেকে বুধবার (১৩ মে) সকালে বনরক্ষীদের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ হয়। দস্যুরা পালিয়ে যায়, কিন্তু তাদের ট্রলার, অস্ত্রসহ চার অপহৃত জেলকে বন বিভাগ জব্দ করে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ি ও স্মার্ট টিম যৌথ অভিযান চালায়। সন্দেহজনক ট্রলার দেখে থামার সঙ্কেত দিলে দস্যুরা গুলি চালায়। পাল্টা গুলিতে লড়াইয়ের পর তারা ট্রলার ফেলে পালায়। ট্রলার থেকে উদ্ধার হন হাসান (৩০), মাসুম (২৫), ইরাক শেখ (২৮) ও নাছিম (২৫)—শরণখোলা ও খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা। তারা শিকলবন্দী ছিল। মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শরীফ বাহিনী অপহরণ করেছিল বলে জানা গেছে। জব্দ হয় এক বন্দুক, এক রাউন্ড কার্তুজ ও চার ওয়াকিটকি। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ সম্পদ বন বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। দস্যুদের ধরতে সুন্দরবনে তল্লাশি চলছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের বিভিন্ন কর্মসূচির সুফল তুলে ধরে পঞ্চগড়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোছা. শুকরিয়া পারভীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার শীল। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সীমা শারমিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সরকার হায়দারসহ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, বৃক্ষরোপণ, নারীদের জন্য বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এসময় জানানো হয়, ১৪ এপ্রিল কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক এ সুবিধা পাবেন। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার মৃত ও ভরাট খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। এতে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসার আহমেদ (২৭) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। মঙ্গলবার (১২ মে) ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, কাউসারকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত ব্যক্তি একটি কারখানায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং অপমৃত্যু হিসেবে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।